নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে সাপে দংশিত রোগী চার হাসপাতাল ঘুরেও ভ্যাকসিন না পেয়ে মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে করিমগঞ্জের দেহুন্দা এলাকার রিকশাচালক আলাউদ্দিন (৩৫) বাড়ির পাশে নরসুন্দা নদীতে গোসল করতে গেলে সাপের দংশনের শিকার হন।
আলাউদ্দিনের স্ত্রী আছমা আক্তার জানান, বাড়ির পাশে নরসুন্দা নদীতে গোসল করতে গেলে ডান হাতের মধ্যের আঙ্গুলে সাপে কামড় দেয়। পরে ১০ টা ৪০ মিনিটে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা বসে থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন সাড়া পাননি তারা। পরে এক নার্স এসে জানান তাদের কাছে ভ্যাকসিন নেই। এ অবস্থায় তাকে নেওয়া হয় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে ২ ঘন্টা অপেক্ষার পর জানানো হয় এখানেও ভ্যাকসিন নেই। নেওয়া হয় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষার পর তাকে একটি স্যালাইন পুশ করা হয়। এখানে রক্ত পরীক্ষা শেষে তারাও ভ্যাকসিন না থাকার কথা জানান। অগত্যা স্বজনরা এম্বুল্যান্সে করে সন্ধ্যার দিকে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে আইসিইউ ফাকা না থাকায় ভ্যাকসিন পুশ করা হয়নি বলে জানান স্বজনরা। এ অবস্থায় রাত সাড়ে ৮ টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রিয়াদ শাহেদ রনি জানান, এখানে যে ভ্যাকসিন রয়েছে, সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে কিশোরগঞ্জে রেফার করা হয়।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, এখানে ভ্যাকসিন রয়েছে। তবে রবিবার সাপে কাটা রোগীটি আসার সময় যিনি দায়িত্বে ছিলেন, চিকিৎসক হিসেবে তিনি নতুন। আমাদের কারও সাথে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করেননি তিনি। সাপে কাটার ইনজেকনও একপ্রকার বিষ উল্লেখ করে পরিচালক জানান, এটি পুশ করলে অনেক সময় ‘এনেসাইক্লেটিক শক’ হয়ে রোগী মারা যায়। সে ভয়েই রোগীটিকে ময়মনসিংহে পাঠানো হয়। তবে এখন থেকে নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে, সাপে কাটা রোগী এলে যেন রেফার্ড করা না হয়। এখানেই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
জেলার ১৩ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে বলে জানান কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা.সাইফুল ইসলাম। ভ্যাকসিন না দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, অনেক সময় ভ্যাকসিন দেওয়ার পর আইসিইউ প্রয়োজন হয়। সেটা উপজেলা পর্যায়ে নেই। সে কারণে হয়তো চিকিৎসক রিক্স নিতে চাননি। তবে বিষয়টা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি, এখন থেকে রোগী এলে রিক্স নিয়েই ভ্যাকসিন দিতে হবে।