নিউজ একুশে ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থেকে ৪৮৪৯ বোতল বিভিন্ন প্রকার মদসহ ৩৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব-১৪ সিপিসি-৩ ভৈরব ক্যাম্পের একটি দল শুক্রবার গভীর রাতে অভিযানটি চালায়।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সোয়া ১২ টার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলার আর. জে টাওয়ারে অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় ৩৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১২০ বোতল হুইস্কি, ৭৪৯ বোতল ভদকা ও ৩৯৮০ বোতল বিয়ার।
গ্রেফতার ৩৯ জন হলেন কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার শোভারাপুর / চানপুর গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আনিছুর রহমান (৪১), ভৈরবের জগন্নাথপুরের মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে ইজারুল হক (৪০), মৃত আবু তাহেরের ছেলে জাকারিয়া ফারুক (৪৮), মৃত কামালের ছেলে রোমেল আহমেদ (৪২), আব্দুল মালেকের ছেলে লিটন মিয়া (৪৭), শিতল চন্দ্র বর্মণের ছেলে সাজু চন্দ্র বর্মন (২৫) ও সুধন চন্দ্র বর্মণের ছেলে তন্তর চন্দ্র বর্মন (২১), চণ্ডিবের এলাকার মৃত মন্নাফ মিয়ার ছেলে বাদল মিয়া (৩৮) ও মৃত মহরম আলীর ছেলে বাছির মিয়া (৪২), শিমুলকান্দি গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে দ্বীন ইসলাম (৪০), রানীবাজার এলাকার মৃত শংকর ঘোষের ছেলে সুমন ঘোষ (৪২), ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান পিয়াল (২৬), জামালপুর এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মিজানুর রহমান (৫০), কমলপুর এলাকার মৃত আক্কাস আলীর ছেলে আসাদুজ্জামান (৪২), আরব মিয়ার ছেলে আলম সরকার (৪২) ও কামাল উদ্দিনের ছেলে শাহীন মিয়া (২৫), ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার হানিফ খাঁনের ছেলে কামরুল হাসান (৪৫) ও মতি মিয়ার ছেলে রানা মিয়া (৩৫), রাধানগর গ্রামের গোলাম আলীর ছেলে আল আমিন (৩৪), বাগানবাড়ি এলাকার অজিত কুমার চন্দ্রের ছেলে পঙ্কজ কুমার (৪৩), কালিপুর গ্রামের মুসা মিয়ার ছেলে আরিফুল ইসলাম (১৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৪১), সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে জহির মিয়া (৩৫), বাড়িউড়া গ্রামের সামছুউদ্দিনের ছেলে ইরফান শাহ (২৪), বিজয়নগর উপজেলার আলা দাউদপুর গ্রামের রায়মন রায়ের ছেলে রূপন রায় (২২) ও চান্দুরা গ্রামের প্রমোদ দাসের ছেলে অপু চন্দ্র দাস (৩৩), নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার মৃত সাধন চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে অপু চন্দ্র বিশ্বাস (৩০) ও থানা হাটি গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (২১), মাধবদী উপজেলার ছোট মাধবদী গ্রামের মৃত উত্তম চন্দ্র পালের ছেলে প্রদীপ চন্দ্র পাল (৩৪), বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে আবু হানিফ সেতু (৪৬), লাকপুর গ্রামের মৃত নূর চানের ছেলে সৈকত মোল্লা (২৬), একই গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে খাইরুল (২৬) ও দক্ষিণ বটেশ্বর গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে আওলাদ হোসেন (২৭), শিবপুর উপজেলার গিলাবের গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে আহসান উল্যাহ (৪০), গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চুরিয়াখোলা গ্রামের (বর্তমানে নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার মেহেরপাড়ায় শ্বশুর স্বপন রায়ের বাসার ভাড়াটিয়া) মৃত জিতেন্দ্র রায়ের ছেলে শ্যামল রায় (৩৫), কুমিল্লা জেলার ভাঙ্গরা বাজার থানার পুস্করিনীর পাড় গ্রামের (বর্তমানে নরসিংদী জেলা সদরের চিনিসপুর গ্রামের বাসিন্দা) নান্নু মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া ওরফে আবু কাউছার (৪৩), সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামের (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার শরিয়তনগর এলাকার আর. জে টাওয়ারের বাসিন্দা) আজিজুল ইসলামের ছেলে আরিফুজ্জামান আরিফ (২৪), ঢাকার বাড্ডা থানার ট-৭৭ মধ্য বাড্ডা প্রগতি সরণি এলাকার (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার শরিয়তনগর এলাকার আর. জে টাওয়ারের বাসিন্দা) হারুণ-অর-রশিদ চৌধুরীর ছেলে ফেরদৌস চৌধুরী (৩৩) ও একই উপজেলার বংশীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে মেহেদী হাসান রাজ (২৩)।
উদ্ধার করা মাদক দ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ৩৬ লক্ষ ৪১ হাজার ৪০০ টাকা বলে র্যাব জানায়।
র্যাবের কোম্পানী কমান্ডার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, তারা দীর্ঘদিন যাবত লাইসেন্স ছাড়া মাদক দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে ২০১৮ সালের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।