নিজস্ব প্রতিবেদক: উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে গণনা। আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
ভোটগ্রহণ শুরুর আগে থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদেরকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মত। দুপুরের দিকে কিছুটা ভাটা পড়লেও ভোটগ্রহণের শেষ দিকে ভোটারদের চাপ বেড়ে যায়। ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরেও ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। মাঝে মাঝে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় জনতার ভিড়ে কিছুটা ভাটা পড়ে। তবে পরিবেশ ছিল শান্ত।
আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিলেও কিশোরগঞ্জের হাওরের তিন উপজেলায় দলীয় প্রতীক ছাড়াই নির্বাচন করে দলটি। ইতোপূর্বে হাওর এলাকা মিঠাইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার নির্বাচন শেষ হয় দলীয় প্রতীক ছাড়াই। শেষ ধাপে আজ সোমবার ইটনা উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়। দলগতভাবে বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
এবারের নির্বাচনে ইটনা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪৬ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ৯৪ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরমধ্যে ইটনা সদর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ১২ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩১ জন, বাদলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ১১ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২৩ জন, রায়টুটী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২৮ জন, চৌগাংগা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৩ জন, বড়িবাড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ১২ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩২ জন, এলংজুরী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ১১ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩১ জন, জয়সিদ্ধি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ৮ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৩ জন, ধনপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ১২ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩০ জন ও মৃগা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, সংরক্ষিত আসনের সদস্য পদে ৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম জানান, নির্বাচনে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।