নিজস্ব প্রতিবেদক: নিউজ একুশেতে প্রকাশিত সংবাদটিই সত্য হলো। কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি ল্যাব থেকে একটি আধুনিক মাইক্রোটম মেশিন উধাও হওয়া সংক্রান্ত সংবাদ গত ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত হয় নিউজ একুশেতে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক যন্ত্রটি চুরি হয়নি বলে দাবি করেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের তদন্তে যন্ত্রটি খুঁজে পায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ল্যাব ইনচার্জকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অডিট টিমের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল, হাসপাতালের ল্যাবে একটি মাইক্রোটম মেশিন ছিল। কিন্তু এখন আর সেটি নেই। পরে এ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিও একই প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে শুরু থেকেই কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে লোকোচুরির আশ্রয় নিয়েছেন।
ল্যাব ইনচার্জ তানভীর আহমেদ দাবি করেছিলেন তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় মাইক্রোটম মেশিনটি তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তবে এ প্রতিবেদকের হাতে আসা গত ২৫ জুলাইয়ের একটি ভিডিও ফুটেজে ল্যাবে যন্ত্রটি দেখা গিয়েছিল। ভিডিও ফুটেজে ল্যব ইনচার্জকেও দেখা গেছে।
বায়োমেডিকেল টেকনিশিয়ান মো. আমান উল্লাহ জানান, মেশিনটা আমি নিজেই বাক্স থেকে বের করে ল্যাবে রেখেছিলাম। এখন সেটা নেই, এটা রহস্যজনক।
মাইক্রোটম মেশিনটি না থাকার কথা অডিট টিম প্রথম অবগত করেছিল বলে জানান হাসপাতালের উপ–পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। অডিট টিমের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদককে যন্ত্রটি না থাকার কথা জানালেও একদিন পরই যন্ত্রটি অন্য স্টোরে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন উপ পরিচালক। পরে এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিও যন্ত্রটির অস্তিত্ব পায়নি বলে গত ৮ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
অডিট চলাকালীন সময়ে প্রথমবার বলেছিলেন যন্ত্রটি পাওয়া যাচ্ছেনা, আবার পরে বলেছেন অন্য স্টোরে পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্ত কমিটি যন্ত্রটি পায়নি। এমন লোকোচুরি কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে উপ পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, অডিট কমিটির মাধ্যমে জানতে পারি যন্ত্রটি পাওয়া যাচ্ছেনা। কিন্তু পরে ল্যাব ইনচার্জ তাকে জানিয়েছিল যন্ত্রটি ব্লাড ব্যাংকের স্টোরে পাওয়া গেছে। মূলত ল্যাব ইনচার্জের কথায় বিশ্বাস করে যন্ত্রটি পাওয়া গেছে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
পরে তদন্ত কমিটির পতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ল্যাব ইনচার্জ তানভীর আহমেদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মহা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে উপ পরিচালক আরও বলেন, নিয়োগকারী কর্মকর্তা হিসেবে মহা পরিচালকই সংশ্লিষ্ট ল্যাব ইনচার্জের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।
গত ৩০ অক্টোবর নিউজ একুশেতে যন্ত্রটি চুরির বিষয়ে একটি সংবাদ পরিবেশন করা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর ঐদিনই হাসপাতালের উপ পরিচালকের মতো কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরীও তার ফেসবুক আইডিতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মাইক্রোটম মেশিনটি যথাস্থানে রয়েছে, চুরি হয়নি উল্লেখ করেন বিবৃতি দেন।

এদিকে হাসপাতালের যন্ত্র চুরির সঙ্গে যারাই জড়িত এবং চোরদের রক্ষায় যিনি বা যারা ফেসবুকে বিবৃতি দিয়েছেন তাদের সকলকেই আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংস্কার আন্দোলনের মুখপাত্র আশরাফ আলী সোহান।
উল্লেখ্য, মাইক্রোটম মেশিনের ম‚ল কাজ হলো স্ট্যারাইলড করা, অর্থাৎ কোনো নমুনাকে অত্যন্ত পাতলা করে কাটা। যাতে এগুলো মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা যায়।
