নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে চলতি অর্থ বছরে সরকারি প্রকল্পে হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে, কোথাও নামেমাত্র, আবার কোথাও একই স্থানে ভিন্ন নামে দুটি প্রকল্প দেখিয়ে পুরো টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামের রেনু মিয়ার বাড়ি থেকে আতহার আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি আগে থেকেই ছিল সিসি ঢালাই। খানিকটা জায়গায় ছিল ইটের সলিং। এবার নতুন প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরনো সলিং করা স্থানের ইট তুলে সেই ইট ঘষামাজা করে আবার সেটাই বসিয়ে বিল তুলে নিয়েছে প্রকল্প কমিটি।
ঠাকুরপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজ তো নতুন কিছুই করে নাই। আগের ইট উডাইয়া আবার বসাইছে।
প্রকল্প কমিটির সভাপতি ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের নারী সদস্য মোছা. জাহানারা বলেন, বিল পেয়েছি দুই লাখ। এরমধ্যে চয়ারম্যানকে ৩০ হাজার, পিআইওকে ২০ হাজার, মিষ্টি খাওয়ার জন্য এলাকার পুলাপাইনরে ১০ হাজার দিয়েছি। আর সচিব সাহেবের ৫% এখনো দিতে পারিনি বলে তিনি আমার প্রতি রাগ। এখন বুঝেন আমার কত রইলো।
মূল রাস্তা থেকে রাউতি ইউনিয়ন পরিষদে যেতে আগেও ছিল ইটের সলিং। এবার এটাতেই নতুন করে দেয়া হয়েছে পৌনে ৪ লাখ টাকার প্রকল্প। রাউতি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিপ্লব ঘোষ রাস্তা আগেই ছিল স্বীকার করে বলেন, নতুন করে কিছু কাজ করা হয়েছে, বাকি টাকা ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

Oplus_131072
তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়া মূল রাস্তা থেকে মেনু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে বরাদ্দ ২ লাখ ৭ হাজার টাকা। অথচ একই জায়গায় পাশের বাড়ির আবুল হাশেমের নামে নেওয়া হয়েছে আরেকটি প্রকল্প। সেটিতে বরাদ্দ সাড়ে ৬ মেট্রিকটন চাল।
একই স্থানে দুটি প্রকল্পের বিষয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক মিয়া বলেন, প্রকল্প লিখার সময় ভুল হয়েছে, বিলের সময় মাস্টাররোল সংশোধন করে নেওয়া হয়েছে।
দামিহা ইউনিয়নের মাখনাপাড়া আজাদ রোড থেকে বোরগাঁও পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়নে দেওয়া হয়েছে ১৫ লাখ টাকার প্রকল্প। শ্রমিকদের মাধ্যমে করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান কাজ করেছেন ভেকু যন্ত্র দিয়ে। মাটি তুলেছেন পাশের ফসলি জমি থেকে। ফলে অল্প বৃষ্টিতে রাস্তাটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
দামিহা ইউনিয়নের মাখনাপাড়া থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত রাস্তা মেরামত প্রকল্পের কোনো কাজই করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ১ লাখ টাকা। স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় দেবনাথ বলেন, এখানে কাজ হলে তো চোখে পড়তো।
জাওয়ার ইউনিয়নের বেলংকা পাকা রাস্তা হতে টেংরাকান্দা পাকা রাস্তা পর্যন্ত ইটের সলিংয়ের জন্য বরাদ্দ ৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা। সেখানে অর্ধেকেরও কম কাজ করে বিল তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান টিটুর কাছে হরিলুটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪৩টি টিআর ও ৪৫টি কাবিটা প্রকল্পে প্রায় দুই কোটি টাকার কাজ চলছে। ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, পরিদর্শন ও যাচাই–বাছাইয়ের পরেই বিল দেওয়া হয়েছে।
তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জিসান আলী বলেন, কেউ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিল দিয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা বলেন, একই জায়গায় একাধিক প্রকল্প দেওয়া আত্মসাতের সামিল। কাজ না করে বিল তোলার সুযোগ নেই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
