নেত্রকোণা সংবাদদাতা: সরকারি স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বলছেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। ঘটনাটি নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার।
অভিযুক্ত এই শিক্ষকের নাম এরশাদ মিয়া। তিনি বারহাট্টা উপজেলার সাহতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারেন না। তবে এই শিক্ষকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী চিত্র। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্বাচনী প্রচারণায়। কোথাও আবার নিজেকে যুবলীগের কর্মী হিসেবেও পরিচয় দিচ্ছেন তিনি। তার এমন প্রচারণার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি উঠান বৈঠকে বারহাট্টা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাইরুল কবির খোকনের পাশেই বসে আছেন শিক্ষক এরশাদ। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রামে তাকে নির্বাচনী প্রচারপত্র বিলি করতেও দেখেছেন এলাকাবাসী।
এরশাদ মিয়ার ভাষ্য, স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কয়েকজনের সাথে তার দ্বন্দ্ব চলছে। এই দ্বন্দ্বের জেরেই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তো স্পষ্ট আপনাকে দেখা গেছে, এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দেননি তিনি।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সাহতা ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় রাজনীতিতে একাধিক গ্রুপিং রয়েছে। এসব গ্রুপিংয়ে শিক্ষক এরশাদ সরাসরি সম্পৃক্ত। নিজেকে যুবলীগের কর্মী পরিচয় দেওয়া এরশাদ সর্বদাই মিছিল–মিটিংয়ে সক্রিয় থাকেন। তারা বলেন, তিনি শিক্ষক মানুষ, নির্বাচনে তার সরকারি দায়িত্ব রয়েছে। তিনি যেহেতু একজন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন, এমতাবস্থায় তার পক্ষে নিরপেক্ষ থাকা কঠিন। সুতারাং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ১৪ মে বারহাট্টা উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঐ শিক্ষক সরকারি চাকুরীর পাশাপাশি নিয়মিত নির্বাচনী প্রচারণায় এক প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। তার এমন কর্মকাণ্ডে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান শফিকুল ইসলাম।
বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, এরশাদের বিষয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়ে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের কোন সুযোগ নেই। নির্বাচনী বিধিনিষেধ অমান্য করে কেউ যদি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আগামী ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বারহাট্টা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খাইরুল কবির খোকন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোটরসাইকেল প্রতীকে, আর সাধারণ সম্পাদক কাজী সাখাওয়াত হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঘোড়া প্রতীকে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।